নিজেদের জীবন দিয়ে বাচিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থীদের

২৭ জুলাই, ২০২৫(বিবিনিউজ):নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ পঙ্ক্তিমালা যেন হৃদয় দিয়ে ধারণ করেছিলেন মাইলস্টোনের দুই শিক্ষক-মাহেরীন চৌধুরী ও মাসুকা বেগম। জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন অগ্নিকুণ্ডে। রীতিমতো মৃত্যুকূপে ডুব দিয়ে আটকে পড়া শিশুদের একের পর এক তুলে আনেন পরম মমতায়। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রাণ রক্ষা হয়নি। নিষ্পাপ ফুলগুলো বাঁচানোর তাগিদে মৃত্যুকে দুহাতে আলীঙ্গন করেন তারা।

সোমবার বিমান বিধ্বস্তের পর মৃত্যুমিছিলের শোক ছাপিয়ে দুই শিক্ষকের বীরত্বগাথা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুরে।  এই শিক্ষকদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও। ইতোমধ্যে তাদেরকে জাতীয় বীর হিসাবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া সরকার। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠক শেষে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে অন্তত ২০ শিশুর জীবন রক্ষা করেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির সমন্বয়ক মাহেরীন চৌধুরী। আগুনে তার শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়। মৃত্যুর আগে স্ত্রীর সাথে শেষ বারের মত সাক্ষাত হয়েছিল স্বামী  মনসুর হেলালের।  কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পরেন তিনি।

জীবনকে উৎসর্গ করে কিভাবে কোমলমতি শিশুদের বাচিয়েছিলেন সে কথাই বলছিলেন তাদেরই এক সহকর্মী।

কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বিয়ে করেননি মাসুকা বেগম। স্কুলই ছিল তার বাড়ি। শিক্ষার্থীরা ছিল আপন সন্তানতুল্য। সোমবার দুপুরে দুর্ঘটনাকবলিত যুদ্ধবিমান যখন স্কুলের ওপর আছড়ে পড়ে, তখনো তিনি ক্লাসে ইংরেজি পড়াচ্ছিলেন। চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমরা ভয় পেও না। আমি আছি। শিক্ষার্থীদের সাহস যুগিয়েছিল ঠিকই কিন্তু আর ফেরা হয়নি তার। প্রত্যক্ষ্যদর্শীরাও জানালেন সেদিনের কথা।

এদিকে,দুর্ঘটনার সময় বীরোচিত ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে এ দুই শিক্ষককে শীগ্রই  রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।

Related posts

Leave a Comment